কুকুর পালন ইসলামে – কী জায়েজ, কী হারাম
কুকুর মানব সমাজে পরিচিত প্রাণী। কুরআন ও হাদিসে কুকুরের উল্লেখ একাধিকবার এসেছে।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
“পৃথিবীতে বিচরণশীল যত প্রাণী আছে, আর যত পাখি দুই ডানা মেলে উড়ে বেড়ায়, তারা সবাই তোমাদের মতো একেক জাতি।”
— (সুরা আনআম: ৩৮)
আসহাবে কাহাফের কাহিনীতেও কুকুরের উল্লেখ আছে। যখন তারা গুহায় আশ্রয় নিয়েছিল, তখন তাদের কুকুর দরজায় শুয়ে পাহারা দিচ্ছিল।
— (সুরা কাহাফ: ১৮, ২২)
কুকুর পালনের হুকুম
ইসলামে শখ বা বিনা কারণে কুকুর পালন হারাম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি পশু রক্ষাকারী বা শিকারি কুকুর ছাড়া অন্য কুকুর পালে, তার আমল থেকে প্রতিদিন দু’ কিরাত পরিমাণ সওয়াব কমে যায়।”
— (বুখারি ৫৪৮২, মুসলিম ১৫৭৫)
তবে শিকার, গবাদি পশু বা শস্যক্ষেত পাহারা দেওয়া, অথবা বাড়িঘর রক্ষার প্রয়োজন হলে কুকুর পালন জায়েজ। এই ক্ষেত্রে ফেরেশতাদের প্রবেশও বাধা পায় না।
কুকুর ঘরে রাখলে ফেরেশতা প্রবেশ
হাদিসে এসেছে:
“যে বাড়িতে কুকুর থাকে ও প্রাণীর ছবি থাকে, সেখানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে না।”
— (বুখারি ৩২২৫, ইবনে মাজাহ ৩৬৪৯)
তবে পাহারাদার কুকুর এই নিয়মের বাইরে।
কুকুর স্পর্শ ও কোলে নেওয়া
কুকুরের লালা নাপাক। শরীরে বা কাপড়ে লাগলে নামাজের আগে ধুয়ে ফেলা বাধ্যতামূলক। অযথা কোলে নেওয়া বা অতিরিক্ত আদর করা জায়েজ নয়।
কুকুর হত্যা করা
-
মানুষ বা পশুর জন্য ক্ষতিকর বা পাগলা কুকুর হলে হত্যা জায়েজ।
-
বিনা কারণে হত্যা করা হারাম।
— (বুখারি ৩০৮০, ইবনে মাজাহ ৩০৮৯)
কুকুরের প্রতি দয়া
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“এক পতিতা নারী একটি পিপাসার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর কারণে ক্ষমা লাভ করেছিল। প্রত্যেক প্রাণীর সঙ্গেও সদ্ব্যবহারের বিনিময়ে সওয়াব রয়েছে।”
— (বুখারি ৩৩২১, মুসলিম ২২৪৫)
উপসংহার
কুকুর আল্লাহর সৃষ্টি, কিন্তু ইসলামে প্রয়োজন ছাড়া পোষা অনুমোদিত নয়। শখের জন্য কুকুর পালন, কোলে নেওয়া বা অতিরিক্ত আদর দেখানো ইসলামসম্মত নয়।
শুধুমাত্র শিকার, পাহারা বা জরুরি প্রয়োজনে কুকুর রাখা জায়েজ।
সূত্র:
আল কুরআন: সুরা আনআম ৩৮, সুরা কাহাফ ১৮, ২২;
সহিহ বুখারি: হাদিস ৩২২৫, ৫০৮১, ৫৪৮২, ৩০৮০, ৩৩২১;
সহিহ মুসলিম: হাদিস ১৫৭৫, ২২৪৫, ৩৮৯;
সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস ৯৫২, ৩৬৪৯, ৩০৮৯;
ফতোয়ায়ে আলমগিরি ৪/২৪২; ফতোয়াতে মাহমুদিয়া ১৮/২৬৪।