পূজা মানেই আনন্দ, নতুন সাজগোজ, নতুন জামাকাপড় আর স্মৃতিময় মুহূর্ত। কিন্তু এর সঙ্গে অনেকেই একটাই সমস্যার মুখোমুখি হন—চুলের অবস্থা! চুল পড়ে যাচ্ছে, রুক্ষ ও ফেটে যাচ্ছে, আবার পাতলা হয়ে যাচ্ছে। অনেকেই তখন পার্লারে ছুটে যান—কেরাটিন, স্মুদিং বা বোটক্সের মতো ট্রিটমেন্ট করাতে। সাময়িকভাবে হয়তো ফল মিলবে, কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই আবার আগের সমস্যা ফিরে আসে। এছাড়া এসব চুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও নষ্ট করতে পারে।
ঘরোয়া উপায়ে চুলের যত্ন নিন
বেশি খরচ না করেই, কম সময়ে চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
চুলের আর্দ্রতা বজায় রাখুন
চুলের মূল যত্ন হল আর্দ্রতা। শুষ্ক চুল রুক্ষ, ভেঙে যায় এবং ফ্রিজি হয়ে পড়ে।
কীভাবে আর্দ্রতা বজায় রাখবেন:
-
নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার করুন
-
সপ্তাহে ১–২ বার হেয়ার মাস্ক লাগান
-
অতিরিক্ত শ্যাম্পু এড়িয়ে চলুন
-
চুল ধোয়ার সময় খুব গরম জল ব্যবহার করবেন না
টিপস: কন্ডিশনার শুধু চুলের দৈর্ঘ্যে লাগান, গোড়ায় নয়।
ঘরোয়া হেয়ার মাস্ক
ভালো মানের হেয়ার মাস্ক চুলকে পুষ্টি দেয়, নরম ও প্রাণবন্ত রাখে।
রেসিপি:
-
১টি পাকা কলা
-
১ চামচ মধু
-
২ চামচ নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল
সব উপকরণ মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ৩০–৪০ মিনিট মাথায় রাখুন, এরপর শ্যাম্পু করুন।
অ্যাপেল সিডার ভিনিগার (ACV)
শ্যাম্পু সব সময় স্ক্যাল্প পুরো পরিষ্কার করতে পারে না। ACV ব্যবহারে চুল ঝলমলে হয় ও স্ক্যাল্প থাকে সতেজ।
ব্যবহার:
-
১ কাপ পানিতে ২ টেবিলচামচ ACV মিশিয়ে শ্যাম্পুর পর রিন্স করুন
-
৫–৭ মিনিট রেখে ঠান্ডা বা কুসুম গরম জলে ধুয়ে ফেলুন
হিট স্টাইলিং এড়িয়ে চলুন
স্ট্রেইনার বা ব্লো-ড্রায়ার বেশি ব্যবহারে চুলের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়।
ক্ষতিকর কারণ:
-
চুল শুকিয়ে যায়
-
রুক্ষতা ও ফ্রিজি বেড়ে যায়
-
চুল ভাঙা ও পাতলা হয়
টিপস: চুল ধোয়ার সময় ঠান্ডা বা কুসুম গরম জল ব্যবহার করুন।
ভেতর থেকে পুষ্টি দিন
শুধু বাইরের যত্নই যথেষ্ট নয়।
খাবার:
-
প্রোটিন: ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম
-
আয়রন: পালং শাক, বিট, ডার্ক চকলেট
-
পর্যাপ্ত পানি: দিনে ৮–১০ গ্লাস
-
কমান ফাস্ট ফুড, কোলা ও চিনি
এই পূজায় কেমিক্যাল নয়, প্রাকৃতিক যত্নেই রাখুন চুলের স্বাস্থ্য। নিয়মিত যত্নে চুল ঝলমলে হবে এবং সঙ্গে বাড়বে আত্মবিশ্বাস। নিজেকে সময় দিন, নিজের রূপকে ভালোবাসুন, আর এই পূজায় নিজেই নিজেকে মুগ্ধ করুন!